বৃদ্ধা মহিলার সত্য

 বৃদ্ধা মহিলা, হাতগুলো যেন বেতের গাছের শিকড়ের মতো মোড়ানো, উত্তাল সমুদ্রের দিকে তাকিয়েছেন। ঝড় তুফান ঝাপসাচ্ছে, এই তীব্র ঝড়ের আঘাত ঠিক যেন তার মনের ভিতরেও ঝাপসাচ্ছে।

"আল্লাহ নেই," তিনি ফিসফিস করে বললেন, বাতাসটি তার কথাটা দূরে ঝাপসা করে দিয়ে শুধু খালি শূন্যতা ফেলে রাখল। "আল্লাহ নেই আমাকে বিচার করতে, আমাকে শাস্তি দিতে। আল্লাহ নেই আমাকে শান্তি দিতে।"

পরিচিত বেদনা অনুভব করছিলেন, এক ধরণের অন্তহীন শূন্যতার যন্ত্রণা, যেটা তার বুকে বাস করছে, অতীতের জগতের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে- এক জগত যেখানে সুগন্ধি ধোঁয়া জ্বলছিল এবং দৈব বাণীর কথা ফিসফিস করে বলা হত। এক জগত যেখানে প্রতিটি প্রার্থনা ভাগ্যের সাথে দর-কষাকষি ছিল, প্রতিটি কর্ম ভক্তির প্রমাণ। কিন্তু সত্য, এটি তার কাছে ঠান্ডা বাতাসে একটা অসহায় ফিসফিসে আসলো, বিশ্বাসের শান্তিটা ছিন্নভিন্ন করে।

আর একটা জলরাশি, পরিশ্রান্ত চামড়ার উপর যেন একটা হীরার জ্বলজ্বলে কাঁটা ধরে, তাঁর গাল বেয়ে নেমে এল। "আল্লাহ নেই, কিন্তু সূর্য আবারও উঠছে, তরঙ্গ সৈকত থেকে ধাক্কা খাচ্ছে, বাতাস তার রহস্যের কথা ফিসফিস করছে।"

তিনি তার নজর করাচ্ছেন একটা পায়ে বালি পড়ে চটুল চোখের এক শিশুকে দেখতে। আর একটা উষ্ণ, আন্তরিক হাসি ফুটে উঠল তার মুখে। ঐ শিশুতে তিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছেন, অসীম চক্র যা জীবন এবং মৃত্যুর উপর ভিত্তি নির্ভর করে। তিনি সৌন্দর্য দেখতে পেলেন, নির্ভরতার শক্তি, সৃষ্টির অনন্ত বল, যা বিশ্বাসের চক্রে সীমাবদ্ধ না।

একটা শান্ত, শান্ত অনুভূতি তাকে জড়িয়ে ধরে। আল্লাহ নেই, তবে হাজার অন্যান্য শক্তি আছে, অন্যান্য বিশ্বাস আছে, অন্যান্য পথ সত্যের। বৌদ্ধ ভিক্ষু কি করা, স্বর্ণিম পরীট যা আদরের সাথে চলে যাচ্ছে, ইহুদী পণ্ডিত যা ধর্মগ্রন্থের কথা পড়ে জ্ঞান আয়ন করছেন, খ্রিস্টান nun যা অসুস্থ মন চেয়ে চলে আসছে, এখানে সবাই সেটা দেখছে তাদের চেয়ে বৃহত্তর জগত একটা, যেখানে আদতে অপ্রকাশিত কিছু আছে যা অনস্বীকার্য।

সোনালি, নির্বাহক চিৎকার তাঁর ঠোঁট থেকে বহিরঙ্গ হয়ে উঠে। আল্লাহ নেই, কিন্তু ভালোবাসা আছে, দয়া আছে এবং সত্যের নিরলস অন্বেষণ আছে। আশা আছে, অন্ধকার ঝড়ের মাঝে ও। সৌন্দর্য আছে, ঐশ্বর্য রহিত চেয়ে।

তিনি একটা গভীর ভারসাম্য অনুভব করছেন, এটা যে নিশ্চিততা র শান্তি নয় কিন্তু গ্রহণের শান্তি। ঝড় তার উপর ধ্বংসের অস্ত্র দেখিয়ে চলে গেছে। তরঙ্গ নিরবিরাম এক ধারার কথা বলে, একটি চিরস্থায়ী মান জাগিয়ে তোলে। তার জন্য দাঁড়িয়ে তার প্রান্ত ভেঙ্গে এসেছে। কিছু অপূর্ব, কিছু গভীর, কিছু চিরকাল পরিশ্রান্ত, আর যে আকাশ তার সামনে খোলে ছেড়ে দেয় একটি কান্বাস, হাজারো ধাগায় বুনা একটা পতাকা, মানব আত্মার অস্তিত্বের সাক্ষ্য হিসেবে, আশ্রয় খুঁজে, সত্য খুঁজে, মানুষী পথ নির্বাচন করে।

আল্লাহ নেই, তিনি বিশ্বাস করলেন, কিন্তু হয়ত একটা ব্রহ্মাণ্ড আছে সম্ভাবনার, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আছে একটা জায়গা, তার জন্য এবং সবার জন্য, প্রতি একজনের নিজস্ব পথে জ্যোতির ভেতরে থেকে যাওয়ার জন্য।

মন্তব্যসমূহ